মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণাতে দেখা গেছে যে,
কোনো মানুষের গলার স্বর যদি কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উত্থাপনার সাথে সাথেই ওঠা-নামা করে, তবে তিনি নিশ্চয়ই সেই ব্যাপারটিতে আগ্রহ বোধ করছেন।
বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, পুরুষরা তাদের আগ্রহের বিষয়ের ব্যাপারে আলোচনা করতে হলে গলার স্বর নামিয়ে ফেলেন আর মহিলাদের ক্ষেত্রে তারা গলার স্বর আরও তীক্ষ্ণ করে তোলেন।
উপায়-৭: মানসিক চাপের লক্ষণ:
মানুষ মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে তার ঘাড়, মুখ ও কপালের পেশী কুঞ্চিত হয়ে থাকে।
অতিরিক্ত চিন্তায় থাকলে মানুষের মনে হতাশা জন্মায় আর এর থেকেই তাদের পেশী শক্ত হয়ে থাকে।
উপায়-৮: ক্রস-লেগ পদ্ধতি:
সাইকোলোজিস্টরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন,
কোনো মানুষ যদি কথোপকথন করার সময় একপায়ের উপর অন্য পা রেখে ক্রস করে বসেন,
সেখানে বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, সে অন্য ব্যক্তির থেকে ভিন্ন মত পোষণ করছেন।
কিংবা, এই শারীরিক ভঙ্গির দ্বারা তিনি নিজেকে মানসিক, শারীরিক এমনকি আবেগের দিক থেকেও গুটিয়ে নিতে চাইছেন।
উপায়-৯: চোখে-চোখ রেখে মনের ভাব বোঝা:
মানুষের চোখের ভাষা মুখের ভাষার থেকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য।
কারণ, মানুষের মুখের কথা মিথ্যে হলেও, তার চোখের ভাষা লোকানোর দক্ষতা এখনও তৈরী হয়নি।
তাই, মানুষের মুখ মিথ্যে বললেও, চোখ কখনও মিথ্যে বলে না।
তাই, আপনার সামনে থাকা মানুষের চোখে ভালো করে তাকান।
সেখানে ভালোবাসা আছে না রাগ-না-দুঃখ আপনি নিজেই ধরে ফেলতে পারবেন।
উপায়-১০: নেতৃত্বমূলক আচরণের প্রকাশ:
কেউ আপনার উপর কতৃত্ব চালাতে চাইলে, সেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব প্রকাশের মাধ্যমে আপনি সহজেই ধরতে পারবেন।
কথা বলার সময় তার বাচনভঙ্গিতে ঔদ্ধত্যসুলভ ভাব থাকলে, তবে ধরতে হবে তিনি আপনার উপর কতৃত্ব করার চেষ্টা করছেন।
তার আচারে-ব্যবহারেও পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।
যেমন, বেশি আঙ্গুল বা হাত নেড়ে কথা বলা, সরাসরি নিজের মতামত প্রকাশ করা, চোখের মাধ্যমে শাসন করার চেষ্টা, গলার স্বরে দৃঢ়তা বজায় রাখা ও ইত্যাদি।
সবশেষে:
তবে, সবসময় মনে রাখবেন, কোনো মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝে ওঠা কোনো সহজ কাজ নয়।
দিনের পর দিন সূক্ষ পর্যবেক্ষণ শক্তি ও অসংখ্য গবেষণার মাধ্যমেই মনোবিজ্ঞানীরা বেশির ভাগ সময় মানুষের চিন্তাভাবনা বুঝে ফেলতে সক্ষম হন।
তাই, একদম শুরু থেকেই যে আপনি মানুষের চিন্তাভাবনা ডিকোড করতে সক্ষম হবেন, তা নয়।
এই ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও ধৈর্য অনেকটা পরিমাণে বাড়াতে হবে।
আর, দীর্ঘদিনের চেষ্টা ও অনেক মানুষের সাথে মেলা-মেশা করলে আপনার মানুষের ব্যবহার সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা তৈরী হওয়া স্বাভাবিক।
এছাড়াও, মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার উপায়গুলোর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো নিজের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কার্যকারিতা বাড়ানো।
দেখবেন, যারা খুব বড় মাপের মেন্টালিস্ট হন, তারা মানুষের শারীরিক ব্যবহার, চোখ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে থেকে সহজেই তাদের মনের মধ্যে কি চলছে তা ধরতে পারেন।
সেক্ষেত্রে, এই প্রফেশনাল মেন্টালিস্টদের সাইকোলজি বিষয় সম্পর্কে যথেষ্ট চর্চা করতে হয়।
তাই, আপনি যত এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করবেন ও যত বেশি চর্চা করবেন, তত সহজেই আপনি মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা লাভ করতে পারবেন।
যদি, মানুষের মনকে পড়তে চান তবে অবশ্যই নানা ধরণের মানুষের সাথে মিশুন, তাদের হাব-ভাব মন দিয়ে লক্ষ্য করুন আর কোনোরকম কোনো সন্দেহের অবকাশ না রেখেই সাইকোলজি বিষয়ে লেখাপড়া করুন।
আমাদের আজকের মানুষের সাইকোলজি বোঝার উপায় গুলো নিয়ে লেখা আর্টিকেলটি এখানেই শেষ হল।
লেখাটি পড়ে আপনাদের পছন্দ হলে অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখতে পারেন আর কমেন্টে আপনার ভালোলাগা জানাতে কিন্তু ভুলবেন না।
আমার নাম মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ । আমি এই ওয়েবসাইট এর প্রতিষ্ঠাতা। পেশায় আমি একজন ওয়েবসাইট ডিজাইনার এবং ব্লগিং আমার প্যাশন। আমি এই সাইট এ ব্লগিং, এফিলিয়েট মার্কেটিং, ইংরেজি নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করি এং আর্ন মানি অনলাইন বিষয়ক বিভিন্ন পোস্ট করে থাকি। এই সাইট এর মূল লক্ষ্য হলো বাংলাতে কোয়ালিটি কনটেন্ট প্রকাশ করা যা সাইট এর ভিসিটার দের কাজে লাগে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন